Advisable Story

গল্পটি বাবা ও ছেলে কে নিয়ে

প্রতিদিনের মত আজও বাবা সারাদিন কাজ করে রাতে বাড়িতে ফিরলেন। বাবা ছিলেন অনেক ক্লান্ত… বাড়িতে ফিরেই দেখলেন তার ৫ বছরের ছেলে তার জন্য বাড়ির গেটের সামনেই অপেক্ষা করছে।

বাবাকে দেখেই ছেলে বলল, “বাবা, একটা প্রশ্ন করি?”

বাবাঃ জি বাবা…কর।

ছেলেঃ বাবা, এক ঘণ্টা কাজ করে তুমি কত টাকা পাও?

বাবাঃ এসব চিন্তা তোমার করার দরকার নেই।

ছেলেঃ Please tell me…

বাবাঃ ৫০০ টাকা।

ছেলেঃ আমাকে ২৫০ টাকা ধার দেবে?

বাবাঃ সারাদিন পর বাবার এসব শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল… এবং ছেলে কে ঝাড়ি দিয়ে বললেন… যাও এখান থেকে…ঘুমাও এখনি। মেজাজ খারাপ করো না।

কিছুক্ষণ পর বাবার মন শান্ত হল।। ছেলের রুম এ গেলেন… ছেলে কে আদর করলেন এবং ২৫০ টাকা দিলেন।।

ছেলে অনেক খুশি হল…বলার বাহিরে…আর বলল , ” Thank You So Much daddy ! ”

এরপর ছেলে বালিশের নিচ থেকে আরও কিছু টাকা বের করল। সব টাকা একসাথে গুনল এবং বলল… বাবা, আমার কাছে এখন ৫০০ টাকা আছে… আমি কি তোমার এক ঘণ্টা পেতে পারি? Please কাল তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসো… রাতে একসাথে খাব !!

~~ আমি নিশ্চিত আপনি এখন আপনার বাবাকে নিয়ে ভাবছেন। আমাদের বাবারা আমাদের জন্য কতই না কষ্ট করেন, কিন্তু আমরা কখনই তাঁকে মূল্যায়ন করিনা। বাবা আর সন্তানের মাঝে সম্পর্ক পৃথিবীর অন্যতম সেরা সম্পর্ক। আব্বু, তোমাকে অনেক ভালোবাসি !!

~~~ সত্যি অনেক হৃদয়স্পর্শী ~~~


আমার মার একটি চোখ ছিল । আমি তাকে দেখতেই পারতাম না । সব জায়গাতেই তার জন্য আমার লজ্জা পেতে হত । তার বিদঘুটে চেহারা দেখে সবাই আমাকে উপহাস করত ।

আমি সবসময়ই বলতাম যে তুমি মরতে পারনা ?? তোমার জন্য আর কত হাস্যকর পাত্রে পরিণত হব আমি ??

যাই হোক, এক সময় আমি উচ্চশিক্ষার জন্য বাহিরে পড়তে গেলাম । সেখানে সফল ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমি বিয়ে করলাম । আমি আমার স্ত্রী আর ২ টি মেয়ে নিয়ে বেশ ভালই সুখে ছিলাম ।

একদিন মা আমার সাথে দেখা করার জন্য আসলেন । এত বছরের মধ্যে আমার বা আমার পরিবারের কারো সাথে মার দেখা হয় নাই । মা যখন দরজার সামনে দাঁড়ালেন, তখন আমার সন্তানেরা মা’কে দেখে হেসে ফেলল । আমি লজ্জায় তখন তাকে ধমক দিয়ে বললাম ,”কে আপনি ? এখানে কেন এসেছেন ? আপনার সাহস কত যে আপনি আমার সন্তানদের ভয় দেখাচ্ছেন ? ”

মা বুঝতে পেরে বলল, ওহ ! দুঃখিত । আমি ভুল জায়গায় এসেছি ।

কিছুদিন পর আমি এক নিকট প্রতিবেশীর কাছে খবর পেলাম যে আমার মা মারা গেছে । আমার মাঝে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হলনা । আমি গেলাম আমাদের সেই পুরনো বাড়িতে ।

একজন প্রতিবেশী আমাকে একটি চিঠি দিয়ে বলল যে আমার মা আমার কাছে দিতে বলেছেন ।

আমি চিঠিটি পড়া শুরু করলাম । >>>>>

” আমার প্রানপ্রিয় পুত্র ,

আমি সবসময় তোমাকে নিয়েই ভাবি । আমি অতিশয় লজ্জিত যে আমি তোমার সন্তানদের ভয় দেখিয়েছিলাম ।

আমি খুবই দুঃখিত যে আমি সবসময়ই তোমাকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছি ।

দেখ, আসলে তুমি ছোটবেলায় খুবই ভয়ংকর এক্সিডেন্ট করেছিলে, যার জন্য তোমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। মা হিসেবে আমি তা মানতে পারিনি । তাই আমি তোমাকে আমার একটি চোখ দিয়ে দিই।

আমি মা হিসেবে খুবই আনন্দিত যে আমার ছেলে এই দুনিয়াকে প্রানভরে দেখছে ।

তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি ।

তোমার মা ।”

আমার কিছুই বলার নেই। একটা কথাই বলবো, মা-বাবার প্রতি বিরূপ না হয়ে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা দেখান। তাঁদের মনে কষ্ট দিয়েন না।

(একটি ইংরেজি আর্টিকেল থেকে অনুবাদকৃত)

 

একটি ছোট্ট মেয়ে এবং তার বাবা একটি ব্রিজ পার হচ্ছিল ।

একটি ছোট্ট মেয়ে এবং তার বাবা একটি ব্রিজ পার হচ্ছিল ।

মেয়েটি যেন ভয় না পায় সেইজন্য বাবা বললেন , ” সোনামণি, আমার হাত শক্ত করে ধরো যেন তুমি পানিতে না পড়ে যাও । ”

মেয়েটি বলল , ” না আব্বু, তুমি আমার হাত ধরো । ”

বাবা অবাক হয়ে বললেন , ” দুটোর মধ্যে পার্থক্য কি ? “

মেয়েটি বলল , ” অনেক পার্থক্য আছে । আমি যদি তোমার হাত ধরি, তাহলে আমার যদি কিছু হয়, তাহলে আমার হাত ছুটে যাবার সম্ভাবনা আছে । কিন্তু তুমি যদি আমার হাত ধরো, তাহলে যত কিছুই হোক না কেন, আমি জানি কোন অবস্থাতেই তুমি আমার হাত ছাড়বেনা। ”

In any relationship, the essence of trust is not in its bind, but in its bond. So hold the hand of the person whom you love rather than expecting them to hold yours.

→ বড় হলেও পড়ুন, নিজের বিবেকের সাথে দায়বদ্ধ থাকতে চাইলে অবশ্যই পড়ুন ←

*** প্রথম মাস ***

হ্যালো আম্মু …..
 আমি এখন লম্বায় মাত্র ৩-৪ ইঞ্চি,
কিন্তু আমার হাত-পা সবই আছে।
আমি তোমার কথা শুনতে পাই।
তোমার কথা ভালো লাগলে আমার
হাত-পা নাড়িয়ে সাড়া দেই।
তোমার হার্ট-বিট আমার সবচেয়ে পছন্দের শব্দ।

*** দ্বিতীয় মাস ***

আম্মু …….
আজকে আমি আমার হাতের বুড়ো আঙ্গুল চুষতে শিখেছি।
তুমি যদি এখন আমাকে দেখো ,
তবে তুমি আমাকে অবশ্যই বেবি বলবে।
আমার অবশ্য এখন বাইরে যাওয়ার সময় হয়নি,
বরং এখানেই আমি উষ্ণ অনুভব করি।

*** তৃতীয় মাস ***

আম্মু ……..
তুমি কি জানো যে আমি একটা ছেলে!
আমি মনে করি তুমি তা জানতে পারলে
অনেক খুশি হবে।
আমি তোমাকে সবসময় খুশি দেখতে চাই …
তুমি মাঝে মাঝে যখন কান্না করো,
তখন আমার খুব খারাপ লাগে।
তুমি হয়তো শুনতে পাও না ……
আমি কিন্তু সত্যিই তোমার সাথে কান্না করি।

*** চতুর্থ মাস ***

আম্মু …….
আমার মাথার চুল গজানো শুরু হয়েছে ….
ছোট্ট ছোট্ট, কিন্তু অনেক সুন্দর চুল।
আমি এখন আমার আঙ্গুল বাঁকাতে পারি,
মাথা নাড়াতে পারি, ভালোভাবে হাত-পা নাড়াতে পারি,
অনেক কিছু করতে পারি ……

*** পঞ্চম মাস ***

আম্মু ……..
আজকে তুমি ডক্টরের কাছে কেন গিয়েছিলে?
ডক্টর তোমায় কি বলেছে?
ডক্টরের কথা আমি শুনতে পাই নি।
আমি তোমার কথা ছাড়া কারও কথা শুনতে পাই না।
আমি ভালো আছি আম্মু, তুমি ভালো আছো তো?

*** ষষ্ঠ মাস ***

আম্মু …..
আমি এখন অনেক ব্যাথা পাচ্ছি,
ডক্টর এখন আমার শরীরে সুচের
মতো কি যেন ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
আমি অনেক ব্যাথা পাচ্ছি আম্মু।
প্লিজ ডক্টরকে থামাও।
আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবো না …..

*** সপ্তম মাস ***

আম্মু …..
আমি ভালো আছি,
আমি এখন স্বর্গের এক এন্জেলের হাতে,
এন্জেল আমাকে বললো,
তোমার নাকি এবরশন করাতে হয়েছে।
তুমি আমাকে কেন চাও নি, আম্মু ???

প্রতিটা Abortion মানে ……..

একটা হৃদয়ের হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া,
দুটি চোখ সারা জীবনের জন্য বন্ধ হওয়া,
দুটি হাত, যা আর কোনদিন কাউকে স্পর্শ করবে না,
দুটি পা, যা আর কোনদিন দৌড়াবে না,
একটা মুখ, যা আর কোনদিন কথা বলবে না ….

 

পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা……(একটি শিক্ষামুলক গল্প)

অনেক অনেক দিন আগে, এক বৃদ্ধ বাবা ও তার সন্তান উটের পিঠে চড়ে এক কাফেলার সাথে হাজ্জ পালনের উদ্দেশে রওনা দিলেন। মাঝ পথে হটাত বাবা তার ছেলে কে বললেন,”তুমি কাফেলার সাথে চলে যাও,আমি আমার প্রয়োজন সেরেই তোমাদের সাথে আবার যোগ দিব,আমাকে নিয়ে ভয় পেয়োনা, ”এই বলে বাবা নেমে পরলেন উটেরর পিঠ থেকে, ছেলেও চলতে লাগল কাফেলার সাথে, কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা হয়ে এল, ছেলে আশে পাশে কোথাও বাবা কে খুজে পেলনা ,সে ভয়ে উটের পিঠ থেকে নেমে উল্টা পথে হাটা শুরু করল , অনেক দূর যাওয়ার পর দেখল তার বৃদ্ধ বাবা অন্ধকারে পথ হারিয়ে বসে আছেন,ছেলে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বাবাকে জরিয়ে ধরলেন, অনেক আদর করে বাবা কে নিজ কাঁধে চড়ালেন , তারপর আবার কাফেলার দিকে হাটা শুরু করলেন, তখন বাবা বললেনঃ আমাকে নামিয়ে দাও আমি হেটেই যেতে পারবো ছেলে বললোঃ বাবা আমার সমস্যা হচ্ছে না, তোমার ভার ও খোদার জিম্মাদারি আমার কাছে সব কিছুরচেয়ে উত্তম , এমন সময় বাবা কেদে দিলেন ও ছেলের মুখে বাবার চোখের পানি গড়িয়ে পরল। ছেলে বললঃ বাবা কাদছ কেন?? বললাম না আমার কষ্ট হচ্ছে না , বাবা বললেনঃ আমি সে জন্য কাদছি না, আজ থেকে ৫০ বছর আগে ঠিক এই ভাবে এই রাস্তা দিয়ে আমার বাবা কে আমিকাঁধে করে নিয়ে গিয়েছিলাম , আর বাবা আমার জন্য দোয়া করেছিলেন এই বলে যে, ” তোমার সন্তান ও তোমাকে এরকম করে ভালবাসবে। আজ বাবার দোয়ার বাস্তব রূপ দেখে চোখে পানি এসে গেল । বৃদ্ধ মা বাবা কে আপনি যেমন করে ভালবাসবেন, ঠিক তেমনটাই আপনি ফেরত পাবেন আপনার সন্তানদের মাধ্যমে ! তাই বলছি, নিজের সুখের জন্য হলেও মা বাবারসেবা যত্ন করো !

” রাব্বির হাম হুমা কামা রব্বায়ানি সাগি রা”

 

ভুল বিশ্বাস

কোন একদিন এক ভদ্রলোক একটি সার্কাস দলের হাতীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।তিনি হাতীটাকে দেখে হটাৎ থমকে যান। হাতীটাকে সামনের পায়ে একটি সাধারন দড়ি দিয়ে বাধা ছিল।তিনি ভিষন অবাক হন এই ভেবে, এত বড় প্রানী চাইলেই সে দড়ি ছিরে পালাতে পারে। কোন শিকল নেই, কোন খাচা নেই তবু অজানা কারনে হাতীটা তা করছে না।
অদুরে হাতীটার প্রশিক্ষক দাড়িয়ে ছিল,তিনি প্রশিক্ষকের নিকট বিষয়টি বলেন।প্রশিক্ষক মৃদু হেসে বলেন, ও এই কথা! তিনি বলেন হাতীটার যখন বয়স কম ছিল আকারও এখনকার চেয়ে অনেক ছোট ছিল তখনও হাতীটাকে এমনই একটা ছোট দড়ি দিয়ে বাধা থাকত, তখন ওটাকে আটকাবার জন্য ঔ দড়িটাই যথেষ্ট ছিল,ওটা পালাতে পারত না।কিন্ত এখন বড় হলেও হাতীটা ভাবে দড়িটা ছিরে সে পালাতে পারবে না, তাই সে চেষ্টাও করে না।
ভদ্রলোক অবাক হন, আর ভাবেন আমরা কত মানুষ নিজেদের ভুল ধারনার কারনে নিজের সামর্থটাই বুঝতে পারি না।

 

।। অবশ্যই পড়ুন ।।

একজন বৃদ্ধ মিনেসোটাতে একা বসবাস করতেন। একদিন তিনি তার আলুর বাগান খননের কথা ভাবলেন। কিন্তু এটি তার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। তার বয়স অনেক বেশি হওয়ায় তিনি দেহে তেমন বল পেতেন না। তাকে সাহায্য করার মত কেবল তার ছেলেই ছিল কিন্তু দুঃখের বিষয় তার ছেলে ছিল জেল এ। এমন অবস্থায় বৃদ্ধ লোকটি ছেলের কাছে চিঠি লিখলেন। এবং চিঠিতে উল্লেখ করলেন –>
“আমার খুব খারাপ লাগছে কেননা অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমি এইবার আলু চাষ করতে পারবনা। বছরে চাষাবাদের এই সময়টাই উপযোগী কিন্তু আমি যদি এখন চাষ করতে না পারি তাহলে আমার অনেক খারাপ লাগবে কেননা তোমার মা আমার চাষাবাদ করা দেখতে অনেক পছন্দ করতেন। আমার অনেক বয়স হয়ে যাওয়ায় আমি জমি খনন করতে পারছিনা। কিন্তু আমি জানি যদি তুমি এখানে থাকতে তবে আমার এত কিছু চিন্তা করতে হতনা। তুমি নিজেই জমিটি খনন করতে যদি তুমি জেল এ না থাকতে।”

খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার ছেলে চিঠি পাঠাল। চিঠিতে সে লিখল—>

“বাবা!! ভুলেও জমি খনন কর না। জমির নিচে আমি অনেক অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছি। ”

সেইদিনই FBI এর লোকজন দিয়ে তাদের বাড়ি ভরে গেল। তারা চিঠিটা তার বাবার কাছ থেকে নিল এবং তাদের বাড়ির জমিটির মাটি খুড়ে তন্ন তন্ন করে অস্ত্র খুজল… কিন্তু কোথাও অস্ত্র পেল না…

এই ঘটনা ঘটার পরদিনই ছেলেটির বাবা তাকে আবার চিঠি লিখল এবং সব ঘটনা খুলে বলল।

তারপর ছেলেটি জবাব পাঠাল…
” জমিটি খনন করার জন্য এরচেয়ে বেশি আর কিছু আমার করার ছিল না… তুমি যাও… এখন আস্তে ধীরে আলু চাষ করো… তারা যেভাবে জমিটি খনন করেছে আমি থাকলেও সেইভাবে খনন করতে পারতাম না। ”

Moral:

>— আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, সব সময় আপনার বুদ্ধি খাটানোর চেষ্টা করুন। সফল আপনি হবেনই। –<

অবশ্যই পড়ুন, আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে—–>>


একদা একজন তরুন তার গ্রাজুয়েশন শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল । সে তার বাবার কাছে আবদার করেছিল যে ওর গ্রাজুয়েশন শেষ করলে বাবা যেন তাকে অমুক কোম্পানির একটি স্পোর্টস কার দেয়। সে এটা ছাড়া আর কিছুই চায়না ।

তো সে যখন তার গ্রাজুয়েশন শেষ করল, সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল যে উনি গাড়ি কিনেছেন কিনা ।

বাবা তার সন্তানকে একটি গিফট বাক্স দিলেন । উৎসাহী কিন্তু হতাশ ছেলে সেই বাক্সটি খুলল এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পেল । রাগান্বিত হয়ে সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, ” তোমার সব টাকা দিয়ে তুমি এইটা এনেছ আমার জন্য ?? ” সে বাসা থেকে বের হয়ে গেল এবং সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দিল ।

অনেক বছর পার হওয়ার পর সেই তরুন ছেলেটি আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং সফল হল । দারুন এক বাড়ি এবং চমৎকার একটি সংসার নিয়ে সে বেশ ভালই ছিল । কিন্তু কিছুদিন পর তার মনে হল যে বাবার সাথে দেখা করা উচিৎ এবং সময় পেলেই সে দেখা করে আসবে ।

এরই মাঝে একদিন তার কাছে একটি টেলিগ্রাম আসলো । এতে ছিল তার বাবার মৃত্যু সংবাদ । আরও ছিল যে তার বাবা তাকে সকল সম্পত্তি উইল করে দিয়েছেন ।

সে যখন তার বাবার বাসায় পৌছালো, কষ্ট এবং হতাশা তাকে গ্রাস করল । সে বাবার গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলো খুঁজতে লাগলো এবং সেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পেল অবিকল সেই আগের মত যত্ন সহকারে রাখা , যেভাবে সে রেখে গিয়েছিল । সে পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগলো এবং তখনি একটি গাড়ীর চাবি পড়ে গেল একটি খামের ভিতর থেকে ।

খামের উপরে সেই ডিলার এর নামই লিখা ছিল যাদের স্পোর্টস কার সে চেয়েছিল গ্রাজুয়েশন এর সময় । সেই তারিখ এর সাথে বড় হরফে লিখা ছিল —> PAID IN FULL.

How many times do we miss God’s blessings because they are not packaged as we expected ??

ভালবাসুন নিজের পিতামাতাকে।

 

।। একটি হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্প ।।

একটি ছেলে তার প্রেমিকার “আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে মিস করি” এই টাইপ মেসেজ পেতে পেতে বিরক্ত হয়ে যেত !এক রাতে প্রেমিকার কাছ হালকা কথা কাটাকাটির পর সে মোবাইল সাইলেন্ট করে দিলো, অনেকগুলো ফোন আসলো, একটি মেসেজ আসলো, কিন্তু সে সেটি না পড়ে ঘুমিয়ে গেল।

পরদিন ভোর বেলায় মেয়ের মা’র ফোনে তার ঘুম ভাঙ্গল। মা বললেন, তার মেয়ে গতকাল রাতে এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে।
বাকরুদ্ধ ছেলেটি তখন মেসেজটি চেক করলো। লেখা ছিল —

” প্লিজ, তুমি বাসার সামনে বের হও, তোমাকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছিল, তাই কাউকে না জানিয়ে এত রাতে বের হয়েছিলাম, আমি এক্সিডেন্ট করেছি, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একবার তোমাকে দেখবো, আই এম সরি….:(”

জীবনে কখনই কোন কিছু Ignore করবেন না।

একটি অসাধারন শিক্ষামুলক গল্প ▬

▬ একটি অসাধারন শিক্ষামুলক গল্প ▬

এক ঈগল একবার বনমুরগীর বাসায় ডিম পেড়ে গেল । বনমুরগী ডিমে তা দিল । বাচ্চা ফুটল । ঈগলের বাচ্চাটি বনমুরগীর বাচ্চা হিসেবে পালিত হতে লাগল । স্বভাবও তার হয়ে উঠল মুরগীর মত। বনমুরগীর মত ডাকে। উড়তেও পারে না।

একদিন সে দেখল আকাশে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে ঈগল । সে বিস্ময়ে প্রশ্ন করল, এটা কি?
 বনমুরগীরা উত্তর দিল, ওটা ঈগল। অসাধারন পাখি। তুমি ওর মত দেখতে হলেও তুমি বনমুরগী হয়ে গেছ। ওর মত কখনো হতে পারবে না।

ঈগলের বাচ্চা এই কথা বিশ্বাস করে কোন দিন উড়ার চেষ্টা ও করল না । এভাবেই সে কাটিয়ে দিল তার পুরোটা জীবন । একসময় তার মৃত্যু হল ।

তার জন্ম হয়েছিলো আকাশের উঁচুতে উড়ার জন্য, কিন্তু তা সে জানতেও পারল না !!

MORAL :—> অধিকাংশ মানুষও এরকম । অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। বেশীরভাগই তা কাজে লাগাতে পারে না । আসুন আমরা অধিকাংশ না হয়ে অন্যতম হতে চেষ্টা করি !!!

শিক্ষা মুলক গল্প

কোন একদিন এক শিক্ষক পথের ধারের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। অদুরে ৯/১০ বছরের দুটি বাচ্চা ছেলে পরস্পরের সাথে ঝগড়া করছিল। প্রথমে সামান্য কিছু কথা কাটাকাটির পর্যায়ে থাকলেও তাদের ঝগড়া এক সময় মারাত্মক রুপ লাভ করে। দুজন দুজনকে নানা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এক সময় তারা একে অপরের পরিবার, বাবা মা এর সম্পর্কে সত্য মিথ্যা মিশিয়ে অরুচিকর কথা বলতে থাকে।
প্রথম থেকেই শিক্ষক সব খেয়াল করছিলেন।তিনি আর বসে থাকতে পারেন না। উঠে গিয়ে ছেলে দুটিকে আদর করে বুঝিয়ে তাদের ঝগড়া থামান। বাচ্চা দুটির হাত ধরে তাদেরকে তার সাথে যেতে বলেন।ছেলে দুটি প্রথমে ভয় পেলেও শিক্ষকের সুন্দর কথাতে তার সাথে যেতে রাজি হয়।তিনি ছেলে দুটিকে একটি পুকুরের ধারে নিয়ে যান।পুকুরটি তখন একদম শান্ত অবস্থায় ছিল আর পানি ছিল একদম স্বচ্ছ।তিনি পুকুরটি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেন এখানে কি দেখতে পাচ্ছ। ছেলে দুটি বলে পানি।আর কি দেখছ জানতে চাইলে বলে পানি খুব পরিস্কার, কিন্ত নিচে ময়লা জমে আছে সেটা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক জানতে চান উপরের পরিস্কার পানি দিয়ে কী মুখ ধোয়া যাবে? উত্তরে ছেলে দুটি বলে হ্যা।তিনি খুব সাবধানে পুকুরের পানি হাতে নিয়ে ছেলে দুটিকে দেখান, সেখানে কোন ময়লা ছিল না।এবার শিক্ষক একটি লাঠি নিয়ে একজনেন হাতে দেন, আর পুকুরের পানিতে ঘাটতে বলেন। এবার তিনি জানতে চান কি দেখছ। ছেলে দুটি বলে পানি নোংরা হয়ে গেছে।তিনি আর জোরে পুকুরের মাটিতে ঘাটতে বলেন, এবার কী দেখছ? তারা বলে পানি আর নোংরা হয়ে গেছে। শিক্ষক জানতে চান এ পানি দিয়ে কী মুখ ধোয়া যাবে, তারা বলে না, তাহলে মুখ নোংরা হয়ে যাবে।
এবার শিক্ষক বাচ্চা দুটিকে বলেন, পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের কিছু দোষ আর গুন থাকে। আমরা যদি দোষ না দেখে গুন গুলোকে দেখি তাহলে তা পানির প্রথম অবস্থার মতই স্বচ্ছ থাকবে।পরস্পরের প্রতি ভালবাসা জন্মাবে।বাচ্চা দুটি তাদের ভুল বুঝতে পারে।শিক্ষাঃ অপরের নোংরা ঘাটতে গেলে তা নিজের গায়েই লাগে।

ছায়াদাত্রী বৃক্ষ

কোন এক সময় এক জায়গায়  একটি আম গাছ ও  একটি ছোট বাচ্চা ছেলে বাস করত। ছেলেটি গাছটির ছায়ায় প্রায়ই খেলা করতে আসত। মাঝে মাঝে সে গাছের মগডালে উঠে খেলা করত। গাছটিও ছেলেটিকে খুব ভালবাসত তার সঙ্গ পছন্দ করত। সময় বয়ে যায়। ছেলেটি বড় হয়ে ওঠে। সে আর গাছটির আশে পাশে খেলতে আসে না। গাছটির মন খারাপ হয়।
অনেকদিন পর ছেলেটি আবার গাছের কাছে আসে। গাছটি লেলেটিকে বলে, এস আমার সাথে খেলা কর। ছেলেটি বলে আমি আর এখন বাচ্চা নই , এখন আর আমি গাছের সাথে খেলতে পারি না। আমার খেলনা প্রয়োজন। আর তার জন্য চাই টাকা। গাছটি দুঃখ প্রকাশ করে বলে, আমার কাছে টাকা নেই , তবে তুমি আমার আম গুলি নিয়ে যেতে পার , সেগুলি বিক্রি করে টাকা পাবে আর তা দিয়ে তোমার খেলনা কিনতে পারবে । ছেলেটি আম পারে আর খুশি মনে চলে যায় আর ফিরে আসে না।
ধীরে ধীরে ছেলেটি যুবক হয়ে ওঠে।  একদিন সে  মন ভার করে আবার গাছটির কাছে ফিরে আসে । গাছটি তাকে তার সাথে খেলতে বলে। ছেলেটি বলে, আমার  হাতে খেলার মত কোন সময় নেই। আমাকে আমার পরিবারের জন্য বাড়ি বানাতে হবে। তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পার? আম গাছটি বলে, দুঃখিত , আমার কাছে কোন বাড়ি নেই। তবে তুমি আমার শাখা গুলি কেটে নিতে পার , যা দিয়ে তুমি তোমার পরিবারের জন্য বাড়ি বানাবে।
ছেলেটি সেটাই করে আর খুশি মনে চলে যায়। ছেলেটির খুশি দেখে গাছটি খুশি হয় কিন্ত সে আর ফিরে আসে না। গাছটি আবার একাকী আর দুঃখ বোধ করে।
একদিন এক অত্যন্ত গরম দুপুরে সে আবার লোকটি  আবার ফিরে আসে আর তা দেখে গাছটি অত্যন্ত খুশি হয়ে ওঠে। গছটি তাকে বলে এস আমার সাথে খেলা কর। লোকটি বলে আমি এখন বুড়ো হয়ে গেছি , আমার একটি নৌকা দরকার যাতে আমি সাগরে যেতে পারি আর একটু শান্তি পেতে পারি। গাছটিও আবারও দুঃখ প্রকাশ করে বলে, আমার কাছে কোন নৌকা নেই, তবে তুমি আমার গুড়িটি নিয়ে যেতে পার, যা দিয়ে তুমি নৌকা বানাবে আর সাগেরে যেতে পারবে। লোকটি তাই করে আর খুশি মনে চলে যায়। অনেকদিন চলে যায় লোকটি আর ফিরে আসে না।
শেষে একদিন একবোরেই ছেলেটি চলে আসে, গাছটি বলে দুঃখিত বৎস,  আমার আর দেবার মত তেমন কিছু নেই, কোন আম নেই। কামড় দেবার মত আমার কোন দাত নেই লোকটি উত্তর দেয়। কোন গুড়ি নেই যাতে তুমি চড়তে পার । এটা করার জন্য আমি অনেক বেশি বুড়ো হয়ে গেছি লোকটি উত্তর করে।
আমার আসলেও দেবার মত আর কিছু নেই , থাকার মধ্যে আছে এই মরা শিকড় গুলো দুঃখের সাথ বলে আম গাছ।
আমার এখন আর বেশি কিছু চাই না, এত বছরে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পরেছি। এখন আমার শুধু একটু বিশ্রাম নেবার জায়গা চাই, লোকটি বলে।
ভালো, বৃদ্ধ গাছের মরা শেকড়ই সবচেয়ে ভালো বিশ্রাম নেবার জায়গা , আমার কাছে বস আর বিশ্রাম নাও গাছটি বলে।
লোকটি গাছটির পাশে বসে আর বিশ্রাম নেয়। গাছটি অত্যন্ত খুশি হয় আর মনের সুখে হাসতে থাকে।
শিক্ষা ঃ এই গল্পে গাছটি আমাদের পিতা মাতোকে প্রকাশ করছে। যখন আমার ছোট থাকি তখন আমরা তাদের সাথে খেলতে ভালবাসি।তারা তাদের জীবনের সবটাই আমাদের জন্য উৎসর্গ করে। যখন বড় হয়ে যাই তখন তাদের পরিত্যাগ করি, কেবল তখনই ফিরে আসি, যখন আমাদের তাদের কাছে প্রয়োজন পরে। তারপরও তাদের কাছে ফিরে এলে তারা কত না খুশি হয়। তাই এখনই তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিৎ যাতে খুব বেশি দেরি না হয়ে যায়।

একটি শিক্ষামুলক গল্প

একদিন এক ডাক্তার একটি জরুরী অপারেশনের জন্য কল পেয়ে তরি ঘরি করে হাসপাতালে আসেন।তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার পোষাক বদলে অপারেশন কক্ষে প্রবেশ করতে যাবেন তখন করিডরে অপেক্ষারত রোগীর বাবা অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে ডাক্তারকে বলেন,
আপনি এতক্ষন কোথায় ছিলেন? আপনার আসতে কেন এত সময় লাগল? আপনার কি কোন দায়িত্ববোধ নেই?
ডাক্তার মৃদু হেসে বলেন, আমি আসলে এখানে ছিলাম না। খবর পেয়েই চলে এসেছি। এখন আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করব।আপনি একটু শান্ত হোন।
শান্ত হবার কথা শুনে বাবা আরও উত্যেজিত হয়ে ওঠেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন
কিভাবে শান্ত হব? আপনার ছেলে হলে আপনি শান্ত থাকতেন? নিজের হলে তবেই বুঝতেন।
ডাক্তার তাকে আবার শান্ত হতে বলেন আর সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে বলে অপারেশন কক্ষে চলে যান।ভদ্রলোক রাগে কটমট করতে থাকেন।
বেশকিছুক্ষন পর অপারেশন শেষে ডাক্তার বের হয়ে আসেন আর রোগীর বাবাকে বলেন, সৃষ্টকর্তাকে ধন্যবাদ আপনার ছেলে ভাল আছে, আপনার কিছু বলার থাকলে নার্সকে জিজ্ঞেস করুন, বলেই তিনি দৌড়াতে শুরু করেন।
পেছনেই নার্স আসছিল, তারর চোখ ছলছল করছে, ভদ্রলোক সেদিকে লক্ষ্য না করেই নার্সকে উদ্দেশ্য করে বলল উনি এত উদ্ধত কেন, এক মিনিট কি দাড়ান যেত না যাতে আমি আমার ছেলের অবস্থা জানতে পারি?
নার্স ভদ্রলোককে বলে, গতকার উনার ( ডাক্তারের) ছেলে রোড একসিডেন্টে মারা গেছে, উনাকে যখন কল করা হয় উনি ছেলের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে ছিলেন, এখন শেখানেই দৌড়াচ্ছেন যাতে ছেলের অনুষ্ঠানে শেষবারের মত থাকতে পারেন।শিক্ষা ঃ আমরা অনেক সময় না বুঝে না জেনে অন্যকে নিয়ে ভুল ধারনা করি, অবিচার করি যা অন্যকে কষ্ট দেয়। ভেবে কাজ করা উচিৎ।

শেফ ও তার মেয়ে। একটি প্রেরণামুলক গল্প

এক মেয়ে তার বাবার কাছে অভিযোগের সুরে বলছে, বাবা, জীবন খুবই রহস্যময়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না আমার জীবনকে কীভাবে গড়ে তুলব।জীবন যুদ্ধে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।প্রতিনিয়ত আমাকে জীবনের সাথে জোড় করতে হচ্ছে, মনে একটা সমস্যার সমাধান করতে না করতেই আর একটা এসে হাজির হচ্ছে।
মেয়েটির বাবা ছিল একজন শেফ। তিনি তাকে রান্না ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে তিনটি পানি পূর্ণ পাত্র চুলার আগুনে চাপিয়ে দেন।কিছুক্ষন পর যখন পানি ফুটতে থাকে তখন তিনি এক পাত্রে একটি আলু, একটাতে ডিম আর বাকিটাতে কিছু কফি বীজ ফেলে দেন।তারপর কিছু না বলেই রান্নাঘর ত্যাগ করেন।মেয়েটি বাবার কাজ অবাক হয়ে দেখতে থাকে আর উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবতে থাকে তার বাবা এগুলি কেন করছে।
২০ মিনিট পর শেফ ফিরে আসেন। তিনি একটি পাত্রে আলু আর ডিমটি রাখেন আর অপর একটি পাত্রে কফি ঢেলে রাখেন।মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন কী দেখতে পাচ্ছ, মেয়েটি বলে আলু, ডিম আর কফি।তুমি এটা দিয়ে কী বোঝাতে চাচ্ছ? মেয়েটি তার বাবার কাছে জানতে চায়।
শেফ ভাল করে দেখতে বলে আর ডিম আর আলুর গায়ে হাত দিয়ে স্পর্শ করতে বলে।মেয়েটি বুঝতে পারে আলু নরম আর ডিম শক্ত হয়ে গেছে।এরপর তিনি কফির কাছে যেতে বলেন, কফির কড়া সুঘ্রানে মেয়েটি চঞ্চল হয়ে ওঠে।
শেফ বলেন, দেখ এদের তিনজনকেই ( আলু,ডিম,কফি) একরকম পানিতে রাখা হয়েছিল,পানির অবস্থাও একরকম ছিল কিন্ত তাদের প্রতিক্রিয়া হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন। আলু তার শক্ত পোক্ত দেহ হারিয়ে নরম হয়ে গেছে, ডিম তার ভঙ্গুর দেহ শক্ত করেছে।আর কফি বীজ যারা সবাই আলাদা ছিল তারা একত্রিত হয়ে নিজেদের প্রকাশের মাধ্যমে পানিকেই পরিবর্তন করে নতুন কিছু তৈরি করে ফেলেছে।তুমি কী হতে চাও?আর আপনারা কী হতে চান?শিক্ষাঃ জীবনে বিভিন্ন পরিস্থিতি আসবেই সেখানে আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তাকে ব্যবহার করবেন তার উপর আপনার চলার পথ তৈরি হবে।

শিক্ষামুলক গল্প

একবার এক শিক্ষক তার ছাত্রদের জন্য তিনটি পুতুল নিয়ে এলেন। পুতুল তিনটি দেখতে একদম এক রকম শুধুমাত্র কিছু সুক্ষ পার্থক্য ব্যাতীত।তিনি ছাত্রদের পুতুল গুলির পার্থক্য খুজে বের করতে বললেন।ছাত্রছাত্রীরা ভাল করে পর্যবেক্ষন করে পার্থক্যগুলি ধরতে পারল। ১ম পুতুলের দুই কান ছিদ্র, ২য় টার এক কান আর মুখে ছিদ্র, আর তৃতীয়টার শুধুমাত্র এক কান ছিদ্র করা আছে। তিনি শিক্ষার্থীদের একটি নিডিল দিলেন আর তা ১ম পুতুলের এক কান দিয়ে প্রবেশ করাতে বললেন।দেখা গেল নিডিলটা এক কান দিয়ে ঢুকে অপরটা দিয়ে বের হয়ে গেছে। ২য় পুতুলে প্রবেশ করালে তা কান দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে।যখন ৩য় টা দিয়ে প্রবেশ করান হয় তখন কিছুটা প্রবেশ করে আটকে যায়।
আমাদের সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা ১ম পুতুলের মত,আপনি যা বলেন তা এক কান দিয়ে শুনে অপর কান দিয়ে বের করে দেয়,তারা এমন ভাব করে যেন আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে, আসলে তা নয়।কিছু ব্যক্তি আছে ২য় পুতুলের মত,যারা আপনার গোপন কথা শুনে অন্যকে তা বলে বেড়ায়।আর কিছু ব্যক্তি আছে ৩য় পুতুলের মত আপনার কথা শুনে তার গোপনীয়তা রক্ষা করে, আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে জানে।তাই কাউকে কিছু বলার আগে তাকে ভালভাবে বুঝে নেওয়া ভাল।

শিক্ষামুলক গল্প

একদা এক বিরাটাকার জাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ পরিলক্ষিত হয়। জাহাজ মেরামতের অভিপ্রায়ে মালিকের চেষ্টায় কোন ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হয়নি। আজ এক জনকে, কাল অন্য জনকে, পরশু আরেকজনকে দিয়ে চেষ্টা চালিয়েই যাইতেছিল। কিন্তু কাহারো পক্ষেই এই জাহাজটিকে মেরামত করা সম্ভব হইতেছিল না। দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াও যখন কোন কুল কিনারা করিতে পারিতেছিল না তখন এক বৃদ্ধ লোকের ডাক পরিল। কারণ বৃদ্ধার যৌবনকালে এমন একটি সমস্যার সমাধান করিয়াছিল বলিয়া জনশ্রুত আছে।

বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোক বিশাল এক যন্ত্রপাতির বাক্স লইয়া হাজির হইয়া দ্রুতই কাজে নামিয়া পরিল। সে ইঞ্জিনের শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত খুবই সতর্কতার সহিত পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরখ করিয়া দেখিল। জাহাজের মালিক বৃদ্ধার সহিত সর্বক্ষণ লাগিয়া থাকিল এবং বোঝার চেষ্টা করিল বৃদ্ধা কিভাবে জাহাজ মেরামত করিবে।

পরিদর্শন শেষ করিয়া বৃদ্ধলোকটি তাহার বিশাল যন্ত্রপাতির বহর হইতে একটি ছোট্ট হাতুড়ি বাহির করিয়া ধীরে সুস্থে এঞ্জিনের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় হাতুড়ি দিয়া কয়েকটা আঘাত প্রদান করিল। সঙ্গে সঙ্গেই এঞ্জিনটি সচল হইয়া উঠিল। কর্মসম্পাদনে বৃদ্ধা সাবধানে তাহার হাতুড়ি ব্যাগে রাখিল।

জাহাজ সারাই সুসম্পন্ন।

এক সপ্তাহ পর
জাহাজের মালিক ১ (এক) লক্ষ টাকার একটি ফর্দ হাতে পাইয়া চোখ ছানাবড়া।
অসম্ভব!!! বুইড়া তো কিছুই করে নাই। সামান্য হাতুড়ী পিটাইয়া এত টাকা চায়?

বৃদ্ধার কাছে বিলটি ফেরত পাঠিয়ে অনুরোধ করা হইলো “দয়া করিয়া তালিকাবদ্ধ ভাবে বিল প্রদান করুণ।”

বৃদ্ধার বিল:
হাতুড়ির বারি দেয়ার জন্য ………………………………………….. ২০০.০০ টাকা
কোথায় হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিতে হবে সেটা জানার জন্য …. ৯৯,৮০০.০০ টাকা

এই গল্পে আমরা কি শিখলাম?

উদ্যম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কোথায় উদ্যমী হলে অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য দৃশ্যমান হবে সেটা জানাটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মীয় শিক্ষামুলক গল্প

rapist_2
এক হিন্দু লোক তার মন্দিরে এক দেবতার মাটির মুর্তিকে নিয়মিত পূজা দিত। ওটা দেখে তার এক অহিন্দু প্রতিবেশী তাকে প্রতিদিন বলত “মাটির মুর্তিকে পূজা করে কোনো লাভ আছে? কি হয় ওটা করে? আপনার দেবতা তো আর পূজা পায় না।”
হিন্দু লোকটা কিছু বলত না। কিন্তু দিন দিন একই ভাবে অহিন্দু লোকটা বিরক্ত করতে লাগল। তাই হিন্দু লোকটা একদিন করল কি, ঐ মন্দিরের বাইরে তার প্রতিবেশী অহিন্দু লোকটার একটা ছবি টাঙ্গালো, পরে যখন অহিন্দুলোকটা আসল, তখন সে ঐ ছবিতে একটা জুতার মালা পরিয়ে রাখল।
অহিন্দু লোকটা এটা দেখে যথারীতি ক্ষেপে গেল!! সে তো রেগে-মেগে আগুন! সে বলল, আপনার সাহস কতোবড় আমার ছবিতে জুতারমালা দিয়ে রাখছেন? আমাকে এতো অপমান করার সাহস আপনাকে কে দিল? এই বলে গালি দিতে লাগল।
হিন্দু লোকটি তখন বলল, ভাই, আমি তো একটা ছবিতে জুতার মালা দিছি, আপনার গলায় তো আর দেইনি। অহিন্দু লোকটা আরো ক্ষেপে গিয়ে বলে – ফাইজলামি পাইছেন, এইটাতো আমারই ছবি, আমার ছবিতে জুতার মালা দিয়ে আমারে অপমান করে আবার আবোল-তাবোল বকছেন মিয়া?
হিন্দু লোকটি বলল – তাহলে আপনার ছবিতে জুতার মালা দিলে আপনার লাগে? অহিন্দু লোকটি বলল – অবশ্যই। হিন্দু লোকটি বলল – তাইলে শুনুন, আপনার কাগজের একটা ছবিতে জুতার মালা দিলে যদি আপনার অপমান হয়, তবে আমার দেবতার ঐ মাটির মুর্তিতে পূজা দিলে আমার দেবতারই পূজা হয়। যদি বুইঝা থাকেন, তাহলে এখন থেকে আর মূর্খের মতো আচরণ করবেন না। অহিন্দু লোকটা তারপর থেকে আর তাকে বিরক্ত করে নি।

শিক্ষামুলক গল্প

#জুলুম-নির্যাতনের পরিণতি

এক বনে বাস করত এক ঝাঁক চড়ুই পাখি। তারা ঝুপড়িতে ডিম পাড়ত এবং বাচ্চা ফোটাত। ওই বনেই বাস করত একটি হাতি। একদিন ঝুপড়ির পাশ দিয়ে নদীতে পানি খেতে আসার সময় হাতির পায়ের নিচে পড়ে কয়েকটি চড়ুই পাখির বাচ্চা মারা গেল। চড়ুইরা এ খবর পেয়ে খুবই কষ্ট পেল। তাদের একজন এ ঘটনাকে ‘ভাগ্যের লিখন’ বলে এড়িয়ে যেতে চাইল। কিন্তু কাকলী নামের এক চড়ুই প্রতিবাদ করে বলে উঠলে :
কাকলী: আমি এসব মানি না। হাতি বড় প্রাণী বলে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে তা হয় না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। নইলে এই বনে আমরা কেউ বাস করতে পারব না।
কাকলীর যুক্তি ও বলিষ্ঠ বক্তব্য অন্য পাখিরা সমর্থন করল। কিন্তু কেউই হাতির অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আগ্রহ দেখাল না। এর পরিবর্তে তারা ওই বন ছেড়ে অন্য স্থানে চলে যাওয়ার পক্ষে মত দিল। কিন্তু কাকলী কিছুতেই তা মেনে নিতে রাজি হলো না। সে বলল : এ বন হচ্ছে আমাদের জন্মভূমি। শত্রুর ভয়ে আমরা যদি এখান থেকে চলে যাই তাহলে আমরা আমাদের জন্মভূমির মর্যাদা রক্ষা করব কী করে? তাছাড়া অপরাধ করেছে হাতি, চলে যেতে হলে তারই যাওয়া উচিত এখান থেকে।
কাকলির পক্ষে এ সময় মুখ খুল এক বুড়ো চড়ুই। সে বলল: ঠিক বলেছো তুমি। কিন্তু অধিকার আদায় করতে গেলে তো লড়াই করতে হবে। আমরা কি হাতির সাথে লড়াই করতে পারব?
কাকলী: কেন পারব না? আমরা সবাই যদি বুদ্ধি খাটিয়ে, নিজেদের সামর্থকে কাজে লাগাই তাহলে নিশ্চয়ই হাতিকে পরাস্ত করতে পারব। তবে লড়াইয়ে নামার আগে আমি হাতিকে শেষবারের মত সাবধান করতে চাই যাতে সে আর আমাদের ঝোপঝাড়ের কাছে না আসে।
বুড়ো চড়ুই: বেশ ভাল কথা। কিন্তু হাতি যদি না মানে তখন কী করবে?
কাকলী : হাতি যদি না শোনে তাহলে তাকে এমন শিক্ষা দেব যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এসব আলাপ আলোচনার পর কাকলী গেল হাতির কাছে। হাতিকে পেয়ে সে বলল: এই যে হাতি! তুমি আজ ঝোঁপের পাশ দিয়ে পানি খেতে যাওয়ার সময় আমাদের ক’টি বাচ্চাকে পায়ের তলায় পিষে মেরেছে। আমি জানতে এসেছি, তুমি কি ইচ্ছে করে এমনটি করেছ নাকি ভুল করে করেছ?
হাতি : আমি ইচ্ছে করে করি আর ভুল করে করি তাতে হয়েছেটা কী? না হয় ক’টা চড়ুইর বাচ্চা মারাই গেল, তাতে দুনিয়া উল্টে গেছে নাকি?
কাকলী: না, দুনিয়া উল্টে যায়নি। কিন্তু সবাই যদি আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একে অপরের অনিষ্ট করে চলে তাহলে নিশ্চয়ই একদিন দুনিয়া উল্টে যাবে।
হাতি: ওসব ফালতু কথা বাদ দিয়ে এখান থেকে চলে যাও। নইলে তোমাদের সবাইকে আমার পায়ের নিচে পিষে মারব। জেনে রেখ, তোমার মত হাজারটা চড়ুই’র দাম আমার এক পায়ের সমানও না।
কাকলী : তুমি অনেক বড় প্রাণী-এটা আমি মানি। তবে তুমি শুধু নিজের দেহটার দিকে তাকিও না। আমরা ছোট হলেও আমাদের প্রাণেরও দাম আছে। আর তাছাড়া আমরা যদি ইচ্ছে করি তাহলে তোমার অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে পারি।
হাতি: কী বললি আমার প্রতিশোধ নিবি তোরা? হা হা হা..। ঠিকাছে তোরা যা করতে পারিস করগে। তবে মনে রাখিস আমার নামও হাতি।
কাকলী: ঠিকাছে, যাচ্ছি। তবে তুমি তোমার অহংকার ও পাপের শাস্তি শিগগিরই পাবে।
এই বলে কাকলী নিজের আস্তানায় ফিরে এসে চড়ুইদের কাছে হাতির দুর্ব্যবহারের কথা জানাল। সব শুনে পাখিরা ভীষণ ক্ষেপে গেল এবং হাতিকে কিভাবে শায়েস্তা করা যায় তা জানতে চাইল।
কাকলী বলল আমরা শক্তিতে হাতির সাথে পারব না ঠিকই, তবে হাতি যেহেতু উড়তে পারে না সেহেতু সে আমাদের আকাশে পিষে মারতে পারবে না। বরং আমরাই উপর থেকে নখ ও ঠোঁট দিয়ে হাতির ওপর হামলা করব। আমরা যদি হাতির চোখ ফুটো করে দিতে পারি তাহলে তার পরাজয় নিশ্চিত।
যুদ্ধের কৌশল নিয়ে আলোচনার পর সবাই মিলে একযোগে হামলা শুরু করল হাতির উপর। তারা হাতির চারপাশ ঘিরে ধরল। হাতি প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই পাখিরা তার চোখ ফুটো করে দিল। কিছু দেখতে না পেয়ে হাতি পাগলের মতো ছুটাছুটি করতে লাগল। এ সময় কাকলী ব্যাঙদের ডাকল এবং হাতির অত্যাচারের কাহিনী শোনাল। তারাও হাতির অত্যাচারের শিকার। হাতিকে সমুচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য তারাও শপথ নিল।
এদিকে, পাখিদের হামলায় চোখ হারিয়ে ছুটাছুটি করতে গিয়ে হাতির ভীষণ পিপাসা পেল। এ সময় কাকলীর নির্দেশে সব ব্যাঙ হাতির কাছে গিয়ে ‘মেঘ হো’, ‘মেঘ হো’ বলে ডাকাডাকি শুরু করল। ব্যাঙের ডাক শুনে হাতি ভাবল, ব্যাঙ যেহেতু ডাকছে সেহেতু খুব আশপাশে নিশ্চয়ই পানি পাওয়া যাবে।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। পানি পাবার আশায় ব্যাঙদের শব্দ শুনে শুনে হাতি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। এ সময় কাকলীর নির্দেশে ব্যাঙরা পৌঁছে গেল মস্তবড় এক গর্তের পাশে। সেখানে গিয়ে ব্যাঙরা ‘মেঘ হো’, ‘মেঘ হো’ বলে চিৎকার দিতে দিতে গর্তে লাফিয়ে পড়ল। ব্যাঙের ডাক অনুসরণ করতে গিয়ে হাতিও হুড়মুড় করে পড়ে গেল গর্তে। চোখে না দেখায় শত চেষ্টা করেও আর গর্ত থেকে বের হতে পারল না। এভাবে হাতিকে উচিত শিক্ষা দিতে পেরে চড়ুই আর ব্যাঙরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

#হিংসা করা ভাল নয়)

হিংসা-বিদ্বেষ মুনাফিকের চরিত্র। কোনো মুমিন অন্য মুমিনের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রাখতে পারে না। এটি মুনাফিকদের একটি বদ স্বভাব।
কেবল মানুষের মধ্যেই নয়, পশুপাখির মধ্যেও এ বদ অভ্যাসটি দেখা যায়। আজ আমরা এ সম্পর্কে একটি গল্প শোনাব।
কচ্ছপ খুবই নিরীহ একটা প্রাণী। কচ্ছপ স্থলে যেমন বাস করে তেমনি পানিতেও বাস করে। কচ্ছপের এত পরিচিতির একটা প্রধান কারণ হলো এই প্রাণীটি ধীর গতিতে চলে। ধীর গতির উদাহরণ এলেই কচ্ছপের নামটিই সবার আগে উচ্চারিত হয়। বিশাল এই পৃথিবীর কোনো এক কোণে বাস করত এরকমই একটি কচ্ছপ। তার বয়সও কম হয় নি। জীবনে অনেক ঠাণ্ডা গরম, তিক্ত আর মিষ্টি অনেক রকমের অভিজ্ঞতা তার জীবনের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে। বিচিত্র চড়াই-উৎরাইয়ের প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কারণে তাকে বানানো হয়েছে প্রাণীদের উপদেষ্টা। যে প্রাণীরই কোনো সমস্যা দেখা দিত সে-ই চলে আসত কচ্ছপের কাছে পরামর্শ নেয়ার জন্য। কচ্ছপের কাছে বসত, লম্বা সময় নিয়ে খোশগল্প করত, ফাঁকে নিজেদের সমস্যার কথা বলত। কচ্ছপও আন্তরিকতার সাথে সবার সমস্যার কথা শুনত এবং তার দৃষ্টিতে যেটা উপযুক্ত সমাধান বলে মনে করত-তা বলে দিত।
সবাই ওই কচ্ছপকে খুবই জ্ঞানী বলে মনে করত। তবে কাঁকড়াই শুধুমাত্র কচ্ছপের ওপর সন্তুষ্ট ছিল না। কাঁকড়া কচ্ছপের অভিজ্ঞতা আর দীর্ঘ জীবনের কোনো মূল্যায়নই করত না। সে বলত: ‘আমিও কচ্ছপের মতো। তার মতোই হাত পা নাড়াই। তার মতোই পানিতে বসবাস করি এবং স্থলেও বাস করি। তাছাড়া আমার তীক্ষ্ণধার দাঁত আছে কিন্তু কচ্ছপের নেই। আমি কচ্ছপের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে পারি। তাহলে প্রাণীরা কেন তাকে এত বেশি সম্মান করে, কেন সবাই তার কাছে যায় নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য? কেন তারা আমার কাছে সমস্যার সমাধানের জন্য আসা তো দূরে থাক, আমাকে সালাম পর্যন্ত দেয় না?’
কাঁকড়ার মনে খুবই হিংসা হতো এবং সে চাইত তার ধারাল দাঁত নখ দিয়ে কচ্ছপের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মেরে ফেলতে। কেবল চাইত বললে ভুল হবে, সে কয়েকবার হামলাও করেছিল। কিন্তু কচ্ছপের ছিল ভীষণ শক্ত খোলস। কাঁকড়ার দাঁত নখ কচ্ছপের ওই শক্ত খোলস ভেদ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। এ কারণে কাঁকড়া আরও বেশি বিরক্ত ছিল। যখনই তাদের দুজনের দেখা হতো কাঁকড়া তখনই কচ্ছপকে এক গাল বাজে কথা শুনিয়ে দিত যাতে কচ্ছপ বিরক্ত হয়। কিন্তু কচ্ছপ কখনোই কাঁকড়ার কথায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সোজা চলে যেত তার পথে।
একদিন হলো কী! একটা খরগোশ দৌড়ে দৌড়ে এসে হাজির হলো কচ্ছপের কাছে। হাঁপাতে হাঁপাতে খরগোশ বলল যে, বনে আগুন লেগেছে। এক কান দু’কান হতে হতে সবার কাছেই আগুন লাগার খবর পৌঁছে গেল। সবাই এসে হাজির হলো কচ্ছপের কাছে। এই বিপদে এখন কী করণীয় তাদের সেটা জানার জন্যই একত্রিত হওয়া। কচ্ছপ খানিক চুপ থেকে ভাবল। তারপর সমবেত প্রাণীদের উদ্দেশে বলল: ‘আমাদের সবার এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। বাতাসের বেগে আগুন এখানে চলে আসার আশঙ্কা আছে।’
সাথে সাথেই প্রাণীরা সেখান থেকে পালাতে শুরু করে দিল। কেউ দ্রুত দৌড়াল, কেউ উড়ে গেল ইত্যাদি যে যার মতো সরে যেতে লাগল। কচ্ছপ নিজেও তার মতো করে ধীরে ধীরে পথ ধরল। একমাত্র প্রাণী যে কিনা কচ্ছপের কথায় কান দেয় নি, সে হলো কাঁকড়া। সে প্রাণীদের যাবার পথে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল: ‘তোমরা কী বোকা, মূর্খ, কচ্ছপের কথায় তোমরা তোমাদের বাসাবাড়ি ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি দিচ্ছ। বাতাস কোথায় যে এখানে আগুন নিয়ে আসবে?’
কিন্তু কাঁকড়ার কথায় কেউ কান দিল না। কাঁকড়ার পাশ দিয়ে যে প্রাণীটা সবার শেষে গেল সে হলো কচ্ছপ। কাঁকড়া তাকে দেখে উপহাসের হাসি দিয়ে বলল: তুমি কোথায় যাচ্ছো হে বুড়ো কচ্ছপ?
কচ্ছপ বলল: আমি চীন ও মচীন যাচ্ছি…
কাঁকড়া বুঝতে পারে নি যে কচ্ছপ তাকে বোকা বানাচ্ছে। সে জানতো চীন অনেক দূরে। কচ্ছপ যেরকম ধীরে ধীরে চলে তাতে আরও দশ বছরেও চীন যেতে পারবে না সে। সেজন্য বলল:
এই গতিতে হেঁটে তুমি
চাচ্ছ যেতে চীনা ভূমি?
এই বলে আবারও সে হাসতে হাসতে বলল: “আহা রে! বেচারা প্রাণীগুলো দেখ কী রকম একটা বেআক্কেল প্রাণীর হাতে পড়ে নিজেদের বিবেককেও জলাঞ্জলি দিয়েছে!”
প্রাণীগুলো বহুদূর গিয়ে আরেকটা জায়গায় সমবেত হয়ে জীবন যাপন করতে লাগল। ভালোভাবেই কাটছিল তাদের। কিন্তু কাঁকড়ার যে কী পরিণতি হলো সেই খবরটাও তাদের কাছে আর কোনোদিনই গেল না। তার মানে তো বুঝতেই পারছ তোমরা। কচ্ছপের কথাই সত্যি হয়েছিল এবং আগুনে পুড়ে কাবাব হয়ে গিয়েছিল কাঁকড়া। আর অপরাপর প্রাণীরা সুখে শান্তিতেই তাদের জীবন কাটাতে লাগল।
এ পর্যায়ে কচ্ছপ সম্পর্কে কিছু জানা-অজানা তথ্য জানাব:
কচ্ছপ এক ধরনের সরীসৃপ যারা পানি ও ডাঙা দুই জায়গাতেই বাস করে। এদের শরীরের উপরের অংশ শক্ত খোলসে ঢাকা থাকে যা শরীরকে যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে।
বর্তমানে কচ্ছপের প্রায় ৩০০ প্রজাতি পৃথিবীতে রয়েছে, এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে রয়েছে। কচ্ছপ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার নিজের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে, সাধারণত এ ধরনের প্রাণীদের ঠাণ্ডা-রক্তের প্রাণী বলে অভিহিত করা হয়। অন্যান্য প্রাণীর মত এরা নিশ্বাস গ্রহণ করে।
কচ্ছপরা সাধারণত মানুষেরই মত বাঁচে কিন্তু কিছু কচ্ছপ ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে বলে জানা যায়।
কচ্ছপের অনেক প্রজাতি পানিতে বা পানির আশেপাশে বাস করলেও এরা ডাঙায় ডিম ছাড়ে। মেয়ে কচ্ছপরা ডিমের জন্য গর্ত করে এবং সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তারা সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়ার পর মা কচ্ছপ ডিমগুলোকে মাটি, বালি বা অন্য যেকোন জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে দেয়। মা কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর ডিমগুলো প্রকৃতির দায়িত্বে রেখে চলে যায়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রজাতি বিশেষে ৬০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। ডিমের আকার মায়ের আকারের উপর নির্ভর করে। বাচ্চা কচ্ছপরা একটি ভ্রণ থলে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যা তাদের ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে।

#সাহায্যের হাত )

….. একবার এক লোক পাহাড়ী অঞ্চলে বেড়াতে গেল। ঘুরতে ঘুরতে সে একটি কাক দেখলো যার দুটি ডানাই কাটা ছিলো। কাকটির এই অবস্থা দেখে সে ভীষন দুঃখ পেয়ে মনে মনে ভাবলো, এটা নিশ্চয়ই কোনো দুষ্ট ছেলের কাজ।
সে ভাবলো, ‘হায় আল্লাহ এই কাকটি এখন উড়বে কিভাবে?
আর যদি সে তার খাবারই সংগ্রহ না করতে পারে তবে সে বাঁচবে কিভাবে?’
এসব যখন সে ভাবছিলো তার কিছুক্ষন পর সে দেখলো সে যায়গায় এক ঈগল উড়ে এলো যার ঠোঁটে ছিলো কিছু খাবার। খাবার গুলো সে কাকের সামনে ফেললো এবং সেখান থেকে উড়ে চলে গেল। এই দৃশ্য দেখে সে অত্যন্ত অবাক হয়ে গেল।
সে ভাবলো যে, ‘যদি এভাবেই আল্লাহ তার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখনে তবে আমার এত কষ্ট করে কাজ করার দরকার কি? আমি আজ থেকে কোনো কাজ করবো না, তিনিই আমাকে খাওয়াবেন’।
সে কাজ করা বন্ধই করে দিলো। কিন্তু দুই তিনদিন পার হয়ে গেলেও সে কোনো খান থেকে কোনো সাহায্য পেল না। এর কারন জানতে সে একজন জ্ঞানী লোকের কাছে গেল।
“তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি দুটি পাখি দেখেছিলে। একটা সেই আহত কাক, আরেকটা সেই ঈগল। তুমি কেন সেই কাকটিই হতে চাইলে? কেন তুমি সেই ঈগলটির মত হতে চাইলে না যে নিজের খাবারতো যোগার করেই, সাথে যারা না খেয়ে আছে তাদের মুখে খাবার তুলে দেয়?”
গল্পের এই লোকটির মতই আমাদের চারপাশে অনেকেই আছেন যারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেচে থাকতে চায়। তারা ভুলে যায় যে নিজেকে সাহায্য করে না, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন না। দুটো কাজের মধ্যে সহজ কাজটি করার জন্যে তারা নিজেরা একটা অজুহাত বানিয়ে ফেলতে ভীষন দক্ষ। যখন আমরা নিজেরা নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু নিশ্চিত করতে পারবো ঠিক সেই মুহুর্তটি থেকেই নিজেদের ঈগলটির মত ভাবতে হবে। অন্যকে বেঁচে থাকার জন্যে সাহায্য করতে হবে।..

এক ছেলে প্রতিদিন এক কলেজের সামনে
ভিক্ষার থালা হাতে দাঁড়িয়ে
থাকতো,,,,বয়স ২৮-৩০ হবে।সে প্রতিদিন
এসে একটা মেয়েকে বলতো,,,আপা দুইটা
টাকা দেন,,মেয়েটা টাকা দিয়ে
কলেজে ঢুকতো,,,,,,,এ ভাবে বেশ কয়েক
মাস চলে গেল।
একদিন ছেলেটি মেয়েটির জন্য অপেক্ষা
করতে লাগলো,,,কিছুক্ষন পর মেয়েটি
আসলো,,,ছেলেটি মেয়েটিকে দেখে
বললো আপা আপনার সাথে কিছু কথা
বলতাম,,,এই শুনে মেয়েটি বললো আচ্ছা
বলেন,,,,
ছেলেটি তখন তার কাপাকাপা গলায়
বললো আমি আপনাকে পছন্দ করি,,,আর
আপনাকে অনেক ভালবাসি,,,যদি আপনী
কিছু বলতেন,,,এই কথা শুনে মেয়েটি তার
উপর রেগে গিয়ে বললো তোমার তো
সাহস কম নয়,আপনী জানেন আমি
কে,আমার বাবা এই কলেজের
প্রিন্সিপাল,,যদি আপনাকে আর এই
কলেজের সামনে কোন দিন দেখি তো
বাবাকে বলে পুলিশে ধরিয়ে দেব।
ছেলেটি কিছু বললো না,,,তাই মাথা নিছু
করে চলে গেল,,ছেলেটি আর কোন দিন
সেই কলেজের সামনে আসে নি।
একদিন মেয়েটি খুব অসুস্থ্য হয়ে
হাসপাতালে ভর্তি হলো,,,পরিক্ষা করে
জানা গেল মেয়েটির পেটে টিউমার
ধরা পড়েছে,,আর এটা অপারেশন করতে খুব
রিক্স।তারপরো অঅপারেশন করতে হবে।
অপারেশন করা হলো এবং মেয়েটি সুস্থ্য
হলো,,হাসপাতাল থেকে মেয়েটি
রিলিস নেওয়ার একদিন আগে এক নার্স
একটি কাগজ মেয়েটির হাতে ধরিয়ে
দিল,,,কাগজটিতে লেখা ছিল_আপনি এখন
সুস্থ্য যদি একটু কষ্ট করে তিন তলার ৭
নাম্বার ঘরে আসতেন,,,,মেয়েটি কিছু
বুঝতে পারলো না,কে দিল কেন দিল।
মেয়েটি আর কোন চিন্তা না করেই সেই
ঘরে চলে গেল।
সেই ঘরে গিয়ে দেখলো সেই ছেলে সেই
ভিক্ষার ছেড়া কাপড় পরে দাঁড়িয়ে
আছে,,মেয়েটি অবাক হয়ে বললো আপনি
আমাকে আসতে বলছেন,,ছেলেটি বললো
হ্যাঁ আমি,,,,,এই বলে ছেলেটি ভিক্ষার
কাপড়টা খুলে ফেললো,,ভিতরে ছিল
ডাক্তারের সেই সাদা পোশাক,,,তখন
ছেলেটা বলতে শুরু করলো,,তোমার
অপারেশন আমি নিজে করেছি,,
তুমি বলেছিলে না তোমার কলেজের
প্রিন্সিপাল,,আর আমি হলাম এই
হাসপাতালের একজন বড় ডক্টর।আমার
কাজ
শুরু হয় বিকেলে,,,আর আমি প্রতিদিন
সকালে ভিক্ষার থালা হাতে তোমার
কলেজে দাঁড়িয়ে থাকতাম আর তুমি যখন
কলেজ থেকে চলে যেতে আমি তখন
হাসপাতালে এসে আমার কাজ
করতাম,,,,তোমার আমি অনেক আগেই
বলতে পারতাম কিন্তু তোমার মন কেমন
মানুষ চায় সেটা বঝতে পারতাম না,,,
তাই যখন বুঝতে পারলাম তোমার টাকা
ওয়ালা ছেলে পছন্দ তখন সরে
এলাম,,,,তোমাকে আর একটা কথা বলি
কিছু কিছু মানুষ আছে অভিনয় করতে
ভালবাসে,,,তাই কখনো মানুষের উপরটা
দেখে বিচার করো না,,,,,,এখন তার অনেক
টাকা কিন্তু কাল দেখবে সে ভিক্ষার
থালা হাতে ঠিকি দাঁড়িয়ে আছে,,,,,,আর
জীবনটা এ রকমেই,,,আজ আছে তো কাল
নেই,,,,

ইঞ্জিনিয়ার, কৃষক ও ব্যবসায়ী : একটি শিক্ষামূলক অসমাপ্ত গল্প

একদেশে ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার আর ৫০ জন কৃষক ছিল। ইঞ্জিনিয়ার-রা তাদের গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিস্কার করতেন যা কৃষকদের অনেক কাজকেই সহজ করে দিত। অন্যদিকে কৃষকরা তাদের দিন-রাত ২৪ ঘন্টা পরিশ্রমে যে ফসল ফলাতেন তা তাদের ও ওই ইঞ্জিনিয়ারদের খাবারের চাহিদা পূরণ করত। এভাবে তাদের দিনগুলো খুব ভালই কেটে যাচ্ছিল, যতদিন না পর্যন্ত …
ওই দেশে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ী এলেন। সেই ব্যবসায়ী তার মেধা, বুদ্ধি ও চতুরতা দিয়ে ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ারের প্রত্যেকের কাছেই বিক্রি করলেন তার প্রতিষ্ঠানের তৈরী কম্পিউটার। সব ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে কম্পিউটার বিক্রি করার পর টুকটাক মেরামত করা ছাড়া ওই ব্যবসায়ীর আর কোনো কাজ রইল না। তখন তার মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি আসল।
তিনি কৃষকদের কাছে গিয়ে বললেন, “আহা, তোমরা কত কষ্ট কর। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। অথচ ফসল বেচে আর কটা টাকাই বা পাও? ইঞ্জিনিয়ারদের দেখ। তারা সারাদিন আরামে চেয়ারে বসে থাকে আর কম্পিউটারে গেম খেলে। অথচ মাস শেষে তারা কত্ত টাকা পায়। তারা চায় তোমরা খেত-খামারবন্দী থাক। তোমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে।” একথা শুনে কৃষকরা ভাবলেন, “ঠিকই তো। আমরা তো খেত-খামারবন্দী থাকতে পারি না।”
অতপর সেই ব্যবসায়ী কৃষকদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেন এবং ধীরে-ধীরে তাদের সবার কাছেও তার প্রতিষ্ঠানের তৈরী কম্পিউটার বিক্রি করলেন।
এদিকে স্বভাবগতভাবে পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হওয়ায় কৃষকরা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে বের ভালই করতে লাগলো। তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ারের মত না হলেও দেখা গেল তাদের কেউ কেউ মধ্যম বা নিম্ন পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন। এভাবেই কৃষক ও ইঞ্জিনিয়ার, যারা এতদিন পরস্পরের সহযোগী ছিল, তারা হয়ে গেল পরস্পরের প্রতিযোগী।
হঠাৎ দেখা দিল নতুন সমস্যা। কৃষকরা সবাই ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে উৎসাহিত হয়ে পড়ায় কৃষি কাজ করার কেউ রইল না। ফলে দেশে দেখা দিল খাবারের সংকট। অন্যদিকে কৃষিকাজ না থাকায় ইঞ্জিনিয়াররাও আর নতুন কিছু আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে না। ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিল হতাশা ও হীনমন্যতা। উপায় না দেখে তারা সেই ব্যবসায়ীর কাছে ছুটে গেল সমাধানের জন্য।
ব্যবসায়ীর তো তখন রমরমা ব্যবসা চলছে। আর কৃষক ও ইঞ্জিনিয়ারদের যার যার পেশায় ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে নিজে ব্যবসা নষ্ট করার কোনো ইচ্ছে তার নেই। তাই তিনি এক অভিনব সমাধান দিলেন। তিনি সবাইকে বললেন যে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজও করা উচিত। সুতরাং এখন ইঞ্জিনিয়ার এবং কৃষক উভয়ই তাদের দিনের কিছু অংশে ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করেন আর কিছু অংশে কৃষিকাজ করেন। সবাই ভাবলেন সমাজে বুঝি শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠা হল। কিন্তু না, দেখা দিল আরেক বিপত্তি।
মেধাবী ও দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা কৃষিকাজের জন্য তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন না। ফলে এখন আর আগের মত নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে না। আবার দক্ষ কৃষকরা তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের চাপে কৃষিকাজে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না। তাই এখন আর মাঠভরা ফসল হচ্ছে না।
ফলে দুইটি ক্ষেত্রের মধ্যে শান্তি ও সমতা আনতে গিয়ে তাদের উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হল। (অসমাপ্ত)

রাতুল ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। সে যা চাইতো তা হাত বাড়ালেই পেতো। তার আনন্দেরও কোন শেষ ছিলনা। সারা দিন সে তার নানান খেলনা নিয়ে খেলতো। কোন খেলনা তার পছন্দ না হলে তা নিয়ে খেলত না এবং তা ছুড়ে ফেলে রাখতো। কোন খেলনা যদি পুরনো হয়ে যেত তাতেও তার ছিল ঘোরতর আপত্তি। এই খেলনা দিয়ে খেলতে সে রাজি নয়।
একদিন তার মামা তাদের বাসায় বেড়াতে আসলো। তিনি রাতুলের এইসব দেখে অনেক কষ্ট পেলেন। রাতুল তার মামার সামনেই তার কিছু পুরনো খেলনা ভেঙ্গে ফেললো।
মামা এটি দেখে তাকে তার ভাঙ্গা এবং পুরনো কিছু খেলনাসহ নিয়ে গেলেন পাশের একটি বস্তিতে। সেখানে কিছু দরিদ্র শিশুকে তার ভাঙ্গা, অকেজো খেলনাগুলো ভাগ করে দিলেন খেলতে। রাতুল দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেল। সে যে সব খেলনা ছুঁয়ে দেখতে চায় না, তা অনেকের কাছে সাত রাজার ধনের মত। খেলনার জন্য তারা হুড়োহুড়ি এবং হালকা ঝগড়াও শুরু করলো একে অপরের সাথে।
এটি দেখে রাতুল তার ভুল বুঝতে পারলো। সে ঠিক করলো যে, তার যা আছে তা সুন্দরভাবে ব্যবহার করবে। কোন কিছুই অকারণে, অবহেলায় নষ্ট করবেনা। কিছু থাকার পরে আরও বেশি পাওয়ার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করবেনা। কেননা যা তার কাছে ছোট বলে মনে হয়, তা অনেকে ছুঁয়ে দেখারও সুযোগ পায়না।
☼ আসুন আমরা আমাদের যা আছে তার সুষ্ঠু এবং পরিপূর্ণ ব্যবহার করি। কিছু নষ্ট করার আগে একবার ভেবে দেখি তাদের কথা যারা তাদের প্রয়োজনটুকুই পাচ্ছেনা। নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা থাকলে বাড়তিটুকু, বিশেষ করে যে সব বস্তু আমরা অবহেলায় ফেলে রাখি, তা অন্যদের দিই। হয়তো এতেই তারা তাদের জীবনে অনেক কিছু পেয়েছে বলে মনে করবে।